গুড়াপ থানার পুলিশের তৎপরতায় এবং গ্রামবাসীর সহযোগিতায় নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ এক বছর পর অবশেষে নিজের পরিবারকে ফিরে পেলেন এক মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলা ।

প্রতিনিধি শুভঙ্কর মুখার্জি : হুগলীর গুড়াপ থানা পুলিশের তৎপরতায় এবং গ্রামবাসীর সহযোগিতায় নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ এক বছর পর অবশেষে নিজের পরিবারকে ফিরে পেলেন এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারী। উদ্ধার হওয়া ওই নারীর নাম অর্চনা রায়, পিতা—প্রয়াত সুবোধ চন্দ্র রায়। তাঁর মূল বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনা জেলার আমডাঙ্গা থানার অন্তর্গত পশ্চিম ধনিয়া গ্রামে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি গুড়াপ থানার অধীনস্থ রাঘববিন্দুবাটী গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা এক ভবঘুরে নারীকে গ্রামে ঘোরাফেরা করতে দেখেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাঁরা অবিলম্বে বিষয়টি গুড়াপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (O/C)-কে জানান। খবর পাওয়ামাত্রই গুড়াপ থানার একটি পুলিশ টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নারীকে উদ্ধার করে নিরাপদে থানায় নিয়ে আসে।
থানায় নিয়ে আসার পর দীর্ঘ সময় ধরে অত্যন্ত ধৈর্য ও মানবিকতার সাথে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। লাগাতার কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি নিজের পরিচয় ও বাড়ির ঠিকানা হিসেবে উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙ্গা থানার কথা জানান। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গুড়াপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৎক্ষণাৎ আমডাঙ্গা থানার সাথে যোগাযোগ করেন।
যোগাযোগের পর জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে আমডাঙ্গা থানার পশ্চিম ধনিয়া গ্রাম থেকে অর্চনা রায় নামে ওই নারী নিখোঁজ হয়েছিলেন এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরিও ছিল। খবর পেয়ে অর্চনা দেবীর ভাইপো রাজা রায় (পিতা—সুভাষ রায়) গুড়াপ থানায় উপস্থিত হন। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন ও পরিচয় নিশ্চিত করার পর পুলিশ অত্যন্ত আনন্দের সাথে অর্চনা দেবীকে তাঁর ভাইপোর হাতে তুলে দেয়।
এক বছর পর প্রিয়জনকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেয়ে অর্চনা দেবীর পরিবার গুড়াপ থানা পুলিশ এবং রাঘববিন্দুবাটী গ্রামের বাসিন্দাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। পুলিশের এই মানবিক উদ্যোগ স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

