রাখি পূর্ণিমায় তারকেশ্বরে জনজোয়ার! শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিধায়ক সন্তু পানের নেতৃত্বে মহাসমারোহে ‘অন্নপূর্ণা অভিনন্দন যাত্রা’
অফিস ডেস্ক : সাংবাদিক সন্দীপ হালদার : তারকেশ্বর ২৮ আগস্ট ২০২৬: আজ পবিত্র রাখি পূর্ণিমার পুণ্য তিথিতে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের সাক্ষী থাকল তারকেশ্বর। তারকেশ্বরের বিধায়ক সন্তু পানের বিশেষ উদ্যোগে আয়োজিত হলো ‘অন্নপূর্ণা অভিনন্দন যাত্রা’। আর এই কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে আজ বিকেলে তারকেশ্বরের রাজপথে নামল হাজার হাজার মহিলার ঢল। ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর সুফল পাওয়ায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানাতেই এই বিশাল অভিনন্দনের আয়োজন করা হয়, যেখানে মহিলাদের উপস্থিতি ছিল সত্যিই চোখে পড়ার মতো।
মিছিলের রুট ও জনজোয়ার:
এদিন বিকেলে তারকেশ্বর নতুন বাস স্ট্যান্ড থেকে এই বর্ণাঢ্য মিছিলটি শুরু হয়। এরপর জয়কৃষ্ণ বাজার মোড়, রেলওয়ে গেট, তারকেশ্বর থানা রোড, বাজার, বিপিআর গেট এবং চাউলপট্টি মোড় হয়ে বিপুল জনসমাগম সহকারে মিছিলটি পুনরায় নতুন বাসস্ট্যান্ডে এসে শেষ হয়। মিছিলজুড়ে মহিলাদের উচ্ছ্বাস ও স্লোগান ছিল দেখার মতো।
৮০ থেকে ৮৫ হাজার মহিলার অ্যাকাউন্টে ক্রেডিট, ধন্যবাদ মুখ্যমন্ত্রীকে:
এই কর্মসূচী প্রসঙ্গে তারকেশ্বরের বিধায়ক সন্তু পান সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আজ মা অন্নপূর্ণারা রাস্তায় নেমেছেন। উমা (দুর্গা পূজা) কিছুদিনের মধ্যেই আসছে, তাঁদের স্বাগত জানাতেই মা অন্নপূর্ণারা আজ রাস্তায়। তাঁরা আজ বুঝিয়ে দিয়েছেন যে গোটা বিধানসভার মধ্যে প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ হাজার মহিলার অ্যাকাউন্টে টাকা ক্রেডিট হয়ে গেছে। আর এর সম্পূর্ণ ক্রেডিট হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। যেভাবে তাঁর নেতৃত্বে সরকার কাজ করছে, সেই সরকারকে ধন্যবাদ জানাতেই আজ মায়েরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় নেমেছেন।”
রাজনৈতিক বিরোধীদের কড়া হুঁশিয়ারি ও ‘শ্রী ঘর’-এর বার্তা:
মিছিল শেষে বিরোধীদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন বিধায়ক সন্তু পান। কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “অনেকেই বেশি চিরবির চিরবির করছিলেন। তাঁদের বলছি, বেশি চিরবির করবেন না। এটা রাম রাজত্ব শুরু হয়েছে, প্রত্যেকে নিজের সঠিক ভূমিকা পালন করুন। তা না হলে লঙ্কার যে অবস্থা হয়েছিল, রাবণের যা দশা হয়েছিল, আপনাদেরও ঠিক একই অবস্থা হবে।”
একই সাথে ‘সেটিং’-এর রাজনীতিকে নিশানা করে তিনি আরও যোগ করেন, “অনেকে সেটিং, মিটিং আর চ্যাটিং-এ বিশ্বাসী। তাঁদের পরিষ্কার বলে দিতে চাই, এই সবে বিশ্বাসী হবেন না, মানুষের কাজ করুন। মানুষের কাজ না করলে সেটিং, মিটিং, চ্যাটিং করেও কোনো লাভ হবে না। তাঁদের ঘর আর ঘর থাকবে না, সোজা ‘শ্রী ঘরে’যেতে হবে।”
আজকের এই অভিনন্দন যাত্রা রাজনৈতিকভাবে যেমন তাৎপর্যপূর্ণ, তেমনই রাখি পূর্ণিমার দিনে হাজার হাজার মহিলার এই উপস্থিতি তারকেশ্বরে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।



